স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ব্যাংকবীমা২৪.কম

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২১

রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডির বিরুদ্ধে নেতিবাচক গল্প

রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। অথচ রুগ্ন ও বিক্রিপ্রায় রূপালী ব্যাংকটিকে ধ্বংসের হাত থেকে একটি শক্তিশালী ব্যাংক পরিনত করেছেন এম. ফরিদ উদ্দিন। ব্যাংকের শতাধিক নতুন শাখা খোলা, অধিক হারে মুনাফা অর্জন, লোকবল নিয়োগ, বড় বড় প্রকল্প তৈরিতে এম ফরিদ উদ্দিনের ব্যাপক অবদান ছিল। ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগ, ঋণ বিতরণ এবং পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম নীতি অনুসরণ এবং পর্ষদের অনুমতি নিয়ে তিনি সকাল কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিত করার মধ্যদিয়েই এসব কাজ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘ ৬ বছর রূপালী ব্যাংকে সাবেক এ সিনিয়র ব্যাংকার সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকের উন্নতি করেছেন। বিএনপি জামায়াত সরকারের আমলে রূপালী ব্যাংক যেখানে বিক্রি হতে শুরু করেছিল, সেই সময়কালে এম ফরিদ উদ্দিন ও পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটিকে একটি শক্তিলাশী ভিত্তির ওপর দাড় করিয়েছেন। বৃদ্ধি করেছেন ব্যাংক আমানত, মূলধন, ঋণ ও অগ্রিম। দীর্ঘদিনের লোকশানের থাকা এ ব্যাংকটিকে একটি লাভজনকে পরিনত করেছিলেন তিনি। তাঁর ওই সময়কালে রূপালী ব্যাংক সর্বোচ্চ প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। যেটি রূপালী ব্যাংকের মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে ইতিহাস। প্রায় শতাধিক নতুন শাখা খোল হয়েছিল। দেশের উন্নয়নে যাত্রাবাড়ি ফ্লাই ওভারে অংশগ্রহণ, ওরিয়নগ্রুপ, বিকন ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মাসহ বিভিন্নগ্রীণ বড় প্রকল্পে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের সম্পদ বৃদ্ধিও জন্য দেশের বিভিন্নস্থানে বহতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব উন্নয়নমূলক কর্মকা- অনুমোদন দিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদ। এখানে কোন এক ব্যক্তির পক্ষে কাজ করা সম্ভব ছিল না।
রূপালী ব্যাংকের ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের সময়কালের একাধিক পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, কোন ব্যাংকের এমডি এককভাবে কোন কাজ করতে পারেন না। এম ফরিদ উদ্দিনও ব্যাংকের উন্নয়নে এককভাবে কাজ করেননি। তাঁরা আরও বলেন, একটি সময় রূপালী ব্যাংকটি বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা ও এম ফরিদ উদ্দিন মিলে এটিকে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা করে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করি। রূপালী ব্যাংক এখন একটি আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধন ব্যাংক। আর এর পেছনে এম ফরিদ উদ্দিনের অবদান অনেক।
আব্দুর রহমান, ফয়েজ রহমান, মোস্তাফা আজিজসহ রূপালী ব্যাংকের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রূপালী ব্যাংকের ইতিহাসে এম ফরিদ উদ্দিনের নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি যেভাবে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়েছেন, নতুন প্রডাক্ট তৈরি করেছেন, লোকবল নিয়োগ দিয়েছেন, কর্মকর্তাদের জন্য কাজ করেছেন তার বিকল্প হয়না। অত্যন্ত স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ব্যাংক পরিচালনা করেছেন তিনি। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রূপাল ব্যাংক ও এম ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন। একটি জাতীয় দৈনিকে রিপোর্টও প্রকাশ করিয়েছেন। এতে রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, এ ধরণের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর রিপোর্টে আর্থিক খাতের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়।
এ ব্যাপারে রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যখন রূপালী ব্যাংকে যোগাদন করি তখন ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তবে আমি ও আমার পরিচালনা পর্ষদ মিলে সরকারের সহযোগিতায় রূপালী ব্যাংকেটিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে স্থাপন করি। আমি একা কোন কাজ করিনি, ম্যানেজমেন্ট টিম, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ব্যাংকের উন্নয়নে কাজ করি। অথচ কিছু লোক আমার কর্মকা-ে ইর্ষান্বিত হয়ে আমার অবসরের দীর্ঘদিন পরেও ষড়যন্ত্র করছেন।