ডেস্ক।।ব্যাংকবীমা২৪.কম

জুলাই ৩, ২০২০

নাতি বলল,দাদুকে পুলিশই গুলি করেছে

কাশ্মিরের সোপোর জেলায় ক্রসফায়ারিংয়ে নিহত হয়েছেন দাদু। রক্ত ভিজে যাওয়া লাশের উপর বসে থাকা তিন বছরের নাতির ছবিটি বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এটি হামলার জায়গা থেকে তোলা বলে জানিয়েছে ভারতের পুলিশ।

বুধবার সকালে উত্তর কাশ্মীরের সোপোর শহরে উগ্রবাদী ও আধা সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার সময় তিন বছরের ছোট্ট শিশুটি তার দাদু বশির আহমেদের সঙ্গেই ছিল।

এই ঘটনার পরে সিআরপিএফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উগ্রবাদীদের গুলির কারণে বসির আহমেদ নামে ওই নাগরিক নিহত হয়েছেন।তাদের বক্তব্য- “সোপোর থেকে কুপওয়ারা আসছিল একটি বেসামরিক গাড়ি। উগ্রবাদীরা গুলি চালাচ্ছিল। গাড়ি চালাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। গাড়ি থামিয়ে একটি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য গাড়ি থেকে তিনি নেমেছিলেন কিন্তু সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান। পরে এসআইএফ এই ছোট্ট শিশুটিকে উদ্ধার করে।

তবে বাচ্চা ছেলেটি তার বাড়িতে পৌঁছলে পুলিশের দাবি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে এবং সে বলে যে পুলিশই তার দাদুকে হত্যা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপে ছেলেটির কণ্ঠে শোনা যায় ‘পুলিশ তার দাদুকে মেরেছে।’

‘বাবা’ কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করা হলে, ৩ বছরের ওই নাতি বলে এবি “গোলি মারি” (দাদুকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছিল) ।ছেলেটি জবাব দেয় “পুলিশ ওহে নে” ।

বুধবার সকালে উত্তর কাশ্মিরের সোপোর শহরে উগ্রবাদী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার সময় ছেলেটি তার দাদু বশির আহমেদের সাথে ছিল।

উগ্রবাদী হামলায় একজন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ)নিহত হয়েছেন, এবং তিন সিআরপিএফ সদস্য আহত হয়েছেন।

তবে শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কাশ্মির রেঞ্জের বিজয় কুমার সুরক্ষা বাহিনীর বশিরকে হত্যা করার বিষয়ে পরিবারের দাবি অস্বীকার করে একে একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

পুলিশ ও সিআরপিএফের এই বক্তব্য অবশ্য মানতে নারাজ বশিরের পরিবার। বশিরের ছেলে সুহেল আহমেদের দাবি, কোনো গুলিযুদ্ধ নয়, তার বাবাকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে সিআরপিএফ। তার প্রশ্ন, বশির যদি গুলিযুদ্ধেই মারা গিয়ে থাকেন, তা হলে ওই গোলাগুলির মধ্যে বাচ্চাটাকে সরানোর চেষ্টা না করে তার ছবি তুলে ভাইরাল করল কে? ঘটনাস্থলে কোনো চিত্রসাংবাদিক বা পথচারী ছিলেন না, তা মেনে নিয়েছেন সিআরপিএফের মুখপাত্র জুনেইদ খানও। বাচ্চাটিকে উদ্ধারের পর পুলিশকর্মীর কোলে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং কান্না থামানোর ছবি টুইট করেছে কাশ্মির পুলিশই। কিন্তু লাশের উপর অসুরক্ষিত, অসহায় বাচ্চাটির ছবি কে ভাইরাল করল? মিলছে না জবাব।

এর মধ্যে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। পুলিশ ও বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুলে তার টুইট, ‘রক্তাক্ত কাশ্মিরে সবকিছুই প্রোপাগান্ডা হয়ে ওঠে। সারা বিশ্বের সামনে ভালো-খারাপের বিভাজন বোঝাতে একটা তিন বছরের শিশুর অসহায়তাকে এ ভাবে ছবি তুলে ভাইরাল করা হল কেন? উর্দিধারী মানুষগুলো বাচ্চাটিকে উদ্ধার করবেন, সেটাই প্রত্যাশিত, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু তার আগে ওই ছবি তুলে তারা যে ভাবে বাচ্চাটার কষ্ট নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন, এটা প্রত্যাশিত ছিল না।’

ছবি-বিতর্কে সিআরপিএফের পাল্টা প্রশ্ন, এই গুলিযুদ্ধে শুধু বশির নন, প্রাণ গিয়েছে তাদের এক সহকর্মীরও। তবে কি ছবি ভাইরাল করার জন্য নিজেদের লোকেরই প্রাণ নিয়েছে তারা? কাশ্মিরের আইজিপি বিজয় কুমারের দাবি, উগ্রবাদীদের হুমকির মুখেই সিআরপিএফকে কাঠগড়ায় তুলছে বশিরের পরিবার। শিশুর ছবিটি যে তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছে, তার শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছেন আইজিপি।

দাবি-পাল্টা দাবির মধ্যেই বশিরের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সরব হয়েছে জম্মু-কাশ্মির আপনি পার্টি। তাদের দাবি, ক’দিন আগে অনন্তনাগে এ ভাবেই সিআরপিএফের উপর উগ্রবাদীহানার সময় বুলেট লেগে প্রাণ যায় ছ’বছরের এক শিশুর। একের পর এক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর পরও কেন সতর্ক হচ্ছে না বাহিনী? গাফিলতি কার? এই ছবি ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে ভারত।