জেলা সংব্দদাতা।।ব্যাংকবীমা২৪.কম

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গাসহ নিহত ৩

কক্সবাজারের টেকনাফে ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গাসহ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আরও ২ আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।নিহতরা হলেন- মো. আব্দুল করিম (২৪) ও নেছার আহাম্মদ প্রকাশ নেছার ডাকাত (২৭)। তারা দুজনেই নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা ছিল।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে জাদিমুরা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়। এ নিয়ে ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ডাকাত নুর মোহাম্মদসহ ৫ জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলো।টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামিরা হ্নীলা ইউপিস্থ জাদিমুরা এলাকায় চাইল্ড ফেন্ডলি স্পেস অফিসের পেছনে পাহাড়ের ওপরে পানির ট্যাংকির নিচে অবস্থান নিয়েছে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল নিয়ে অভিযান চালাই। এ সময় পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অস্ত্রধারী দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে এএসআই/কাজী সাইফ উদ্দিন, কং/নাবিল ও কং/রবিউল ইসলাম আহত হয়। জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি ছুড়ে প্রতিহত করতে নির্দেশ দিই। পুলিশ ২৮ (আটাশ) রাউন্ড গুলি করে। গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে আমরা গুলি করা বন্ধ করি।

সেই সুযোগে ঘটনাস্থল হতে অস্ত্রধারী দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করতে করতে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনসাধারণের মধ্য হতে গুলিবিদ্ধ ২ জন ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ও জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি সহ ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা গুলিবিদ্ধ ২ ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল করিম (২৪) ও নেছার আহম্মদ প্রকাশ নেছার ডাকাত (২৭) বলে জানান।

জানা গেছে. আব্দুল করিম (এমআরসি নং- ৪৫৯৫০) নয়াপাড়া রেজিস্টার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের জমির আহাম্মদের ছেলে। নেছার আহাম্মদ প্রকাশ নেছার ডাকাত (এমআরসি নং- ৩৫১২২) (২৭), একই ক্যাম্পের একই ব্লকের সৈয়দ হোসেনের ছেলে।

গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের রাত সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাহাদের কে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়াও ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি করে আসামিদের বিক্ষিপ্তভাবে ফেলে যাওয়া ২ টি এলজি (আগ্নেয়াস্ত্র), ৭ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ এবং ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা জব্দ করা হয় বলে জানান প্রদীপ কুমার দাশ।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধে এক যুবক নিহত হয়েছে।নিহত ওই যুবকের নাম সুজন মালিথা (৩৫) ।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ক্যানালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশের দাবি, সুজন একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মাদকের মামলা রয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিনের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশের কাছে খবর আসে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া ক্যানালপাড়া এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি চলছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণ পর মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে। পরে তাকে কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি নাসির উদ্দিন দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি, ৩০০টি ইয়াবা ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানসহ চার জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।