স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ব্যাংকবীমা২৪.কম

সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯

বিএসআরএম আরও ৬০৫ কোটি কর ফাঁকি

শত কোটি টাকার পর নতুন করে আরও ৬০৫ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। দেশীয় কাঁচামালের বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) উৎসে কর কর্তন বাবদ এই অর্থ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

এনবিআরের অতিরিক্ত কমিশনার, বৃহৎ করদাতা ইউনিট (আয়কর) ঢাকা এবং চট্টগ্রাম শাখা কার্যালয়ের ২০১৭-১৮ সালের নিরীক্ষাকালে বিএসআরএম স্টীলের আয়কর নথি, বার্ষিক নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।নিরীক্ষাটি করেছে অডিট কোম্পানি মো. আবদুল হক হাং অডিট এন্ড অ্যাকাউন্টস।

এতে দেখা গেছে, বিএসআরএম স্টীলের অননুমোদনযোগ্য ব্যয় বাদ দিয়ে মোট আয় কম দেখিয়েছে ৬০৫ কোটি ২৩ লাখ ৮২ হাজার ১৯৫ টাকা। ঋণে জর্জরিত কোম্পানিটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তপন সেনগুপ্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে রাজি হননি।

অডিট প্রতিবেদনে বিএসআরএমের অনিয়মের ব্যাখ্যা দেখানো হয়েছে, করদাতা কোম্পানি কর্তৃক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে দাখিলকৃত বার্ষিক প্রতিবেদনে কাঁচামাল কেনা বাবদ মোট ব্যয় ২৭২ কোটি ৮৭ লাখ ১৬ হাজার ৯৩৩ টাকা এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল দেখানো হয়েছে ৩০৭ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪৪১ টাকা।

মোট সংগৃহীত কাঁচামালের (দেশীয়) মূল্য (২ হাজার ৭২৮ কোটি ৭১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩২-৩০৭ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪৪১)২ হাজার ৪২১ কোটি ৫৮ লাখ ১৩ হাজার ৮৯১ টাকা। অর্থাৎ দেশীয় কাঁচামালের বিপরীতে উৎসে কর কর্তন করা হয়নি।

উক্ত ব্যয়ের উপর আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ৫২ ধারা ও অর্থ আইন, ২০৬ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন না করায় আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৩০(এএ) ধারায় অননুমোদিত ব্যয় হিসাবে মোট আয়ের সঙ্গে যোগকরণযোগ্য।

অডিটরের নিরীক্ষা মন্তব্যে বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৫২ ধারা ও অর্থ আইন, ২০১৬ অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল ক্রয়ের সময় উৎসে কর কর্তনের কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিলো।

সুপারিশে বলা হয়: আয়কর বাবদ কম নিরূপণকৃত টাকা দ্রুত আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করে নিরীক্ষা অধিদফতরকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এর আগেও এনবিআরকে দেশের ভেতরে পণ্য বিক্রি করে তা বিদেশের রফতানি দেখিয়ে ১১০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে কোম্পানিটি। কর ফাঁকির এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দিয়েছে এনবিআরের চট্টগ্রাম শাখা। কোম্পানিটি টাকা না দিয়ে বরং বিশেষ ও উচ্চ আদালতে মামলা করে অভিযোগের বিরুদ্ধে।

এনবিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রফতানিকৃত বলিয়া গণ্য’সংজ্ঞার আওতায় পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা আইনের অপব্যবহার করে পণ্য সরবরাহের বিপরীতে গৃহীত বিধি বহির্ভূত প্রত্যর্পণ ও অপরিশোধিত মূসকের হিসেবে সরকারকে ১১০ কোটি ৫৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএসআরএম প্রায় আড়াই হাজার টন পণ্য সরবরাহের বিপরীতে শুল্ক কর প্রত্যর্পণ নিয়েছে তিন কোটি ৫৬ লাখ টাকা, আর ভ্যাট পরিহার করেছে ১৪ লাখ টাকা।

২০১৭ সালে দুই ধাপে প্রায় ১০ হাজার টন পণ্য সরবরাহের বিপরীতে শুল্ককর ও ভ্যাট ফাঁকি ১২ কোটি টাকার ওপরে। আর ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ৮৯ হাজার টন পণ্য সরবরাহের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি শুল্ক কর প্রত্যর্পণ নিয়েছে ৯১ কোটি টাকা। আর ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে তিন কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

সব মিলে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ করা পণ্য ‘রফতানি বলে গণ্য’ দেখিয়ে ১০৬ কোটি টাকার শুল্ককর ও চার কোটি টাকার ভ্যাট অপরিশোধিত রাখে।