স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ব্যাংকবীমা২৪.কম

অক্টোবর ২, ২০১৮

ইউরিয়ার চাহিদা মেটাতে প্রকল্প

দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটাতে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে চাহিদার সিংহ ভাগ আমদানি করতে হয়। এই আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার নরসিংদীর ঘোড়াশাল ও পলাশ কারখানা আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটি উত্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। দেশে ইউরিয়ার চাহিদা মেটাতে আমদানি বাবদ বছরে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয় সরকারকে। অথচ এক সময় এদেশ থেকে ইউরিয়া রফতানি করা হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (বিসিআইসি) অধীনে ৮টি সার কারখানা আছে। এর মধ্যে ৬টিতে ইউরিয়া উৎপাদন করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দেশে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এওপি, জিপসামসহ ৪০ লাখ টনের বেশি সারের চাহিদা রয়েছে।

যার মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদা ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন। কিন্তু দেশের ৬টি কারখানার মোট উৎপাদন হয় গড়ে ২৬ লাখ টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২-৩ মাসে ৬টি কারখানা থেকে মাত্র ৭ লাখ ৬৪ হাজার টন ইউরিয়া সরবরাহ করা হয়। পরে সরকারকে মোট ৭ হাজার ৯৮০ কোটি টাকার সার আমদানি করতে হয়। যা তার আগের বছরের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৮০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ অর্থ কারখানা দুটি আধুনিকায়নে ব্যয় করা হবে। ১৯৭০ সালে স্থাপিত ঘোড়াশাল কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ টন। এখন উৎপাদন হয় এর অর্ধেক। অন্যদিকে, ১৯৮৫ সালে স্থাপিত পলাশ কারখানার বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৮০ হাজার টন।

আরো জানা গেছে, চলতি বছর শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পলাশ ও ঘোড়াশাল সার কারখানা আধুনিকায়নের নির্দেশ দেন। পরে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বছরে ৯ লাখ ২৮ হাজার টন ইউরিয়া ও পাঁচ লাখ টন গ্রানুলা ইউরিয়া সার উৎপাদন সম্ভব হবে।

২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং শেষ হবে ২০২২ সালের জুন মাসে। প্রকল্প ব্যয়ের ৮ হাজার ৯৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হবে। জাপান কমার্শিয়াল ব্যাংক, নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনস্যুরেন্স এবং ব্যাংক অফ টোকিও-মিৎসুবিসি/এইচএসবিসি এ ঋণ দেবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঋণ ইক্যুইটি রেশিও হবে ৬০:৪০, ঋণের সুদের হার ৪.৫ শতাংশ এবং গ্রেস প্রিয়ড হবে ৫ বছর। অর্থাৎ সরকারকে কিস্তিতে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপিপি অনুসারে অর্থ মন্ত্রণালয় ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের জন্য ১২৬টি পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং ৫৬টি গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিসিআইসি ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি এই প্রকল্পের জন্য দরদাতা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আগ্রহ প্রস্তাব (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহ্বান করা হয়। এতে ১১টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়। উন্মুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে এই ১১টির মধ্য থেকে চারটিকে বাছাই করা হয়।