স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ব্যাংকবীমা২৪.কম

অক্টোবর ২, ২০১৮

আর্থিকখাত সংস্কারের ওপর গুরুত্তারোপ

বাংলাদেশে মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো, ও রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। এছাড়া বাজেটে চাপ মোকাবিলায় আর্থিকখাত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আজ মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বর্তমান অবস্থার আকার দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আকার বৃদ্ধির পিছনে যে চালিকাশক্তি তা হচ্ছে আভ্যন্তরীণ চাহিদা। আর যোগানের দিক থেকে এর প্রতিফলনে দেখা যায় শিল্পখাতে প্রবৃধির হার অনেক বেড়ে গেছে, নির্মাণ খাতেও প্রবৃধির হার বেড়েছে।

কিন্তু এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতির ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা উর্ধগামী। বহির্বাণিজ্যক্ষেত্রে চলতি খাতে ঘাটতি বেড়েছে। এছাড়া আর্থিক খাতে অনেকদিন ধরে আমরা যে অতিরিক্ত তারুল্যর একটা অবস্থানে ছিলাম ইদানীং সেই অতিরিক্ত তারুল্য কমার একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছে। যার ফলে সুদের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং রাজস্ব খাতে আমাদের বাণিজ্যের ঘাটতি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।’

তবে এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘সংস্কার’র উপর গুরুত্তারোপ করেছেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের জিডিপির পরিমাণ ৭ বা ৬ শতাংশ বড় কথা নয়, আমাদের গ্রোথ ধরে রাখতে হবে। তাছাড়া রফতানি ও ব্যক্তি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে তা দূর করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ৬ ব্যাংকে এর পরিমাণ ৪৮ শতাংশ। এতে বাংলাদেশে মূলধন ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর বলেন, আমাদের দেশে মেগা প্রকল্প সব ঋণের ওপর নির্ভরশীল, এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। এখন বিলিয়নের হিসাব চলছে কিন্তু আমরা চাই সবুজের সঙ্গে থাকতে, লালের সঙ্গে না। আমরা যেন অন্য দেশের মতো ঋণগ্রস্ত হয়ে না পড়ি এ বিষয়ে সব থেকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফানসহ সংসস্থাটির অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।