স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ব্যাংকবীমা২৪.কম

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

প্রযুক্তি নির্ভরতায় রাজস্ব আদায় এনবিআরের

গেলো পাঁচ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫.২৬ শতাংশ। এ সময়ে মোট রাজস্ব আদায়ে ৩৫.১৭ শতাংশ আয়কর ও অন্যান্য খাত, ৩৬.০৭ শতাংশ স্থানীয় পর্যায়ে মূসক (মূল্য সংযোজন কর খাত) এবং ২৮.৭৬ শতাংশ শুল্ক আদায় হয়।

ইটিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৩৬ লাখের বেশি। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি-রপ্তানি, অর্থপাচার, রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বন্ধ করতে এনবিআর নজরদারি বাড়িয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভরতায় রাজস্ব আদায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।এনবিআরের গত পাঁচ অর্থবছরের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে এ প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আদায় বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে এনবিআর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকায় প্রতিবছরই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করতে হয়েছে। নতুন আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

রাজস্ব জালের বিস্তারে এনবিআর উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখাতে পারেনি। সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভরতায় রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকায় রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হয়নি। অর্থপাচারের পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। এখানেও এনবিআর উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখাতে পারেনি।

এব্যাপারে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, এনবিআরের কার্যক্রমে আগের চেয়ে গতি এলেও তা যথেষ্ট নয়। এখনো সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারেনি। অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। এসব বিষয়ে আরো গুরুত্ব বাড়াতে হবে। বিশেষভাবে এনবিআরকে জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, এনবিআরের কার্যক্রমে আধুনিকতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজস্ব আদায় প্রতিবছরই বাড়ছে। আশা করছি সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এনবিআর সফল হবে।এনবিআরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা, আদায় হয় এক লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.৩২ শতাংশ।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, আদায় এক লাখ ৫৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪.৬০ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, আদায় হয় এক লাখ ৮৫ হাজার তিন কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৯৬ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় দুই লাখ পাঁচ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এ সময়ে এনবিআরের প্রবৃদ্ধি হয় ১৯.৭৩ শতাংশ। এনবিআরের গত পাঁচ বছরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির গড় হার ১৫.২৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অনেক রাজস্ব ফাঁকিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য সরবরাহকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। অর্থ পাচাররোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ ৩৩টি দেশের সঙ্গে অর্থ পাচাররোধে নতুন সমঝোতা হয়েছে। এসব দেশের সরকার অর্থ পাচাররোধ, পাচারকৃত অর্থ ফেরতে এবং পাচারকৃত অর্থ থেকে রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতায় রাজি হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভরতায় রাজস্ব আদায়ে এনবিআর সীমিত পরিসরে ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং, ই-রিটার্ন চালু করেছে। অনলাইনে টিআইএন দেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে চেষ্টা চলছে। আগামী অর্থবছরে ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আয়কর ও শুল্ক আইন কার্যকরেও কাজ চলছে।

পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, এনবিআর ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এই আইনটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এনবিআরের রাজস্ব আদায় কয়েকগুণ বাড়বে।

একই সঙ্গে নতুন আয়কর ও শুল্ক আইন বাস্তবায়ন করলে দ্রুত করদাতার সংখ্যা এবং রাজস্ব জালের বিস্তার হবে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনো এনবিআরের অসাধু কর্মকর্তারা করদাতাদের হয়রানি করে থাকে। এতে করদাতারা কর দিতে নিরুৎসাহিত হয়। করদাতাদের হয়রানি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভরতায় কর আদায় একমাত্র উপায়।