সেবিকা রানী

সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন

আজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। সনাতন ধর্মের প্রাণপুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। সনাতন ধর্মানুসারীদের বিশ্বাস অনুসারে দ্বাপর যুগের শেষভাগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় দেবকীর অষ্টম গর্ভে কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। সনাতন ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করেন কৃষ্ণ ছিলেন স্বয়ং ঈশ্বর। দুষ্টের দমন করে পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মানুষের রূপ নিয়ে পৃথিবীতে আর্ভিভূত হয়েছিলেন। “কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং” শ্রীমদ্ভাগবতের অর্থানুসারে পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ।

সনাতন ধর্মনুসারীদের মতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীব ও জগতের কল্যাণার্থে ধূলির ধরায় আবির্ভূত হওয়া অলৌকিক ও অবিস্মরণীয় ঘটনা। এমনকি ধরাধামে তার অনন্ত ও অপার মহিমা প্রমাণের জন্য তিনি সাকার বিগ্রহরূপে তথা জীবরূপ ধারণের মাধ্যমে অবতারণা করেন। সুতরাং দ্বাপর যুগে যুগসন্ধিক্ষণে রোহিণী নক্ষত্রযোগে কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে পূর্ণ অবতাররূপে শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত জন্মলীলাকে কেন্দ্র করেই জন্মাষ্টমী উত্সব। শ্রীকৃষ্ণের জন্মবৃত্তান্তে শ্রীমদ্ভাগবতের নির্দিষ্ট তিথি ও মাস উল্লেখ না থাকলেও মহামুনি শ্রীশুকদের ‘অজনজন্ম ঋক্ষম’ কথাটি উল্লেখ করেছেন, কারণ পুরাণ মতে, সবাই জানে শ্রীবিষ্ণুর নাভিকোমল থেকে ব্রহ্মার জন্ম।

আর ব্রহ্মা হলেন ‘অজনজন্মা’ ও ‘ঋক্ষম’ শব্দার্থ নক্ষত্র শব্দ দুটির বিশ্লেষণে ব্রহ্মা যে নক্ষত্রে অধিষ্ঠাত্রী দেবতা সেই নক্ষত্রকেই বুঝায়। ব্রহ্মা হলো রোহিণী নক্ষত্রের দেবতা, তাই ভাদ্রের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী নক্ষত্র যোগই শ্রীকৃষ্ণের জন্মের প্রকৃত সন্ধিক্ষণ। ভাদ্র মাসে রোহিণী নক্ষত্রযোগে কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে যদু বংশের বসুদেব পিতৃত্ব ও মাতা দেবকীর গর্ভে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অষ্টম অবতাররূপে অবতীর্ণ হলেন ‘শ্রীকৃষ্ণ’।

দ্বাপর যুগ অসুর রাজারা ছিল খুবই অত্যাচারী। তাদের অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এমনকি ধরিত্রীদেবও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। দিন দিন অসুরদের অত্যাচার এতই বেশি হয় যে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রজাপতি ব্রহ্মার নিকট জানায়। কথা শুনে ব্রহ্মাও ব্যথিত হয় এবং গভীর দুঃখ প্রকাশ করে। তারপর দেব-দেবীগণ ও ধরিত্রীদেবীসহ ব্রহ্মাও ক্ষীর সমুদ্র তীরে গিয়ে ভগবানের কৃপা প্রার্থনা করতে লাগে। তখন তাদের প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে শুধু ব্রহ্মাকে অবগতির জন্য দৈববাণীতে বলেন, ‘হে ব্রহ্মা, আমি খুব তাড়াতাড়ি যদুবংশীয় রাজাদের রাজধানী মথুরার রাজা সুরসেনের পুত্র বসুদেবের সন্তানরূপে অর্থাত্ যদুবংশীয় দেবকের কন্যা দেবকীর অষ্টম গর্ভে আবির্ভূত হব। ধরিত্রী দেবসহ তোমরা আমার নির্দেশ অনুসারে দ্বারকা, মথুরা এবং ব্রজের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জন্মগ্রহণ করবে।

যদু বংশে আবির্ভূত হওয়ার হয়তবা কারণ ছিল, কেননা যদু বংশের রাজারা ছিল অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। ব্রহ্মা বাণী শুনে অন্য সবাইকে জানিয়ে দিল এবং সবাই যথাস্থানে ফিরে গেল। তখন উগ্রসেন নামে মথুরার এক রাজা ছিল। রাজা ছিল অত্যন্ত ধার্মিক। কিন্তু রাজা ধার্মিক হলে কী হবে, তার ছেলে কংস ছিল খুবই অত্যাচারী। তার অত্যাচারে সবাই ছিল অতিষ্ঠ। কংসের অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে নিজের পিতা উগ্রসেনকেও সিংহাসনচ্যুত করে কারাবন্দি করে নিজেই মথুরায় রাজত্ব করত।

এই অত্যাচারী কংস আরাধনায় বর লাভ করেন যে একমাত্র দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান ছাড়া অন্য কোনো ভাবে তার মৃত্যু হবে না। দেবকীর বিবাহ হয় বসুদেবের সঙ্গে। বর কনেকে রথে করে বেড়াতে যায় এবং রথের সারথী হচ্ছে কংস। হঠাত্ করে সেই দৈববাণীটি কংসের কানে বেজে উঠল, ‘ওরে নির্বোধ যাকে তুমি রথে করে নিয়ে যাচ্ছ তার গর্ভের অষ্টম সন্তান তোমার প্রাণ হরণ করবে’, দৈববাণী শুনে কংস সঙ্গে সঙ্গে খড়্গ নিয়ে দেবকীকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হলো।

এ দেখে বসুদেব কংসকে সবিনয় অনুরোধ করে বলল, ‘দেবকীকে তুমি মের না, দেবকীর তো কোনো দোষ নেই, তা ছাড়া সে তোমার বোন’, কিন্তু কোনো কথাই কংস শুনতে চাইল না। তখন বসুদেব আবার বলল, ‘দেবকীকে নিয়ে তো তোমার কোনো ভয় নেই, ভয় শুধু দেবকীর সন্তানকে নিয়ে। তাই আমি কথা দিচ্ছি আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই তোমার হাতে সোপর্দ করব।’ এ কথা শুনে কংস শান্ত হলো ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে নিক্ষেপ করল।

মাঝখানে কেটে গেল অনেক বছর। একে একে জন্ম নিল ছয়টি সন্তান। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর পরই কংস আসে এবং বসুদেব পূর্ব প্রতিশ্রুতিমতো নিজেদের সন্তানকে কংসের হাতে তুলে দেয়। আর কংস সঙ্গে সঙ্গে পাথরের সঙ্গে আছাড় দিয়ে সন্তানটিকে মেরে ফেলে। সপ্তম গর্ভের সন্তান যখন ভগবান অভিন্ন শ্রীবলদেব অধিষ্ঠিত হয়েছিল তখন শ্রীভগবানের নির্দেশে যোগমায়া দেবী দেবকীর গর্ভ হতে তাকে স্থানান্তরিত করে নন্দালয়ে রোহিণীর গর্ভে স্থাপন করে এবং লোকসমাজে প্রচার করা হয় দেবকীর গর্ভপাত হয়েছে।

এবার অষ্টম গর্ভের সন্তান অর্থাত্ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মগ্রহণ করার পালা। কারাগারের অনেক বেশি পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করল। মাস ছিল ভাদ্র, তিথি ছিল অষ্টমী এবং রজনী ছিল ভীষণ দুর্যোগময়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে প্রকৃতি ধারণ করে এক অন্যরকম মূর্তি, বিদ্যুত্ চমকাচ্ছিল ঠিক এমন সময় লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চতুর্ভুজা মূর্তিতে দেবকী ও বসুদেবের পুত্ররূপে আবির্ভূত হয়েছিল। শ্যাম বর্ণ চতুর্ভুজ মূর্তি দেখে অবাক হলো দেবকী, তা ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের শরীরে বিভিন্ন ধরনের মহাপুরুষের লক্ষণ দেখতে পেল। তখন বিস্মিত হয়ে ভগবানের স্তব করতে লাগল।

এবং তখন স্বাভাবিক দ্বিভুজ আকৃতি ধারণ করলেন সেই সময় শ্রীকৃষ্ণ তাদের উদ্দেশ করে বলল, ‘সয়ম্ভুর মন্বন্তরে তুমি ছিলে পৃশ্নি এবং বসুদেব ছিল সুতপা নামে প্রজাপতি। প্রজা সৃষ্টির আদেশকালে তোমরা ১২ হাজার বছর আমার তপস্যা করেছিলে। সে সময় তোমাদের বর প্রার্থনা করতে বললে তোমরা আমার মতো সন্তান পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলে এবং ত্রেতা যুগে তোমার গর্ভে আমি ধরা দিয়েছিলাম। তখন সবাই আমাকে পৃশ্নি পুত্র বলে ডাকত। এমন করে কশ্যব অদিতির গৃহেও আমি একবার জন্মগ্রহণ করেছিলাম।’ এবার সর্বশেষে তিনি দ্বাপরে বিশ্বপালক সর্বশক্তিমান ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবকীর কোলজুড়ে আবির্ভূত হয়েছেন। দেবকী বসুদেব দৈববাণী হলো, ‘বসুদেব, তুমি এখনই গোকুলে গিয়ে নন্দের স্ত্রী যশোদার পার্শ্বে তোমার ছেলেটিকে রেখে এস এবং এই মুহূর্তে তার যে কন্যা শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে তাকে এনে দেবকীর কোলে শুইয়ে দাও। আমার মায়ায় পৃথিবীর সব মানুষ এখন গভীর ঘুমে অচেতন, যার ফলে কেউ কিছুই জানতে পারবে না।’

সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে নিয়ে বসুদেব ছুটতে লাগল নন্দের বাড়ির দিকে। পথে যমুনা নদী। বর্ষাকালে তাই যমুনা কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। তখন বসুদেবের নিরুপায় মনে হলো। হঠাত্ করে বসুদেব দেখল যমুনার জল শুকিয়ে গেছে এবং একটা শ্রীগাল যমুনা নদী পার হয়ে যাচ্ছে। বসুদেব তখন ওই রূপধারী শ্রীগালকে পথপ্রদর্শক মনে করে তার পেছনে পেছনে হাঁটতে লাগল। এমন সময় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। বসুদেব ও শ্রীকৃষ্ণকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করার জন্য নাগরাজ তার বিশাল ফণা বিস্তার করল তাদের মাথার ওপরে। কিছু সময়ের মধ্যে বসুদেব তার ছেলেকে যশোদার কোলে রেখে যশোদার কন্যা যোগমায়াকে নিয়ে কংসে কারাগারে ফিরে এল।

সকালবেলা কংস খবর পেল দেবকীর অষ্টম সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কারাগারে চলে এসে দেবকীর কোল থেকে মেয়েটিকে ছিনিয়ে নিয়ে একইভাবে পাথরের ওপরে আছাড় মারতে মেয়েটি শূন্যে উঠে গিয়েই যোগমায়া মূর্তি ধারণ করে। মহাশূন্যে মিলিয়ে যাওয়ার পূর্বে কংসকে বলে গেল, ‘তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে’, এ কথা শুনে অবশ্য কংস মথুরার সব শিশুকে মারার পরিকল্পনাও করেছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।

কংস শ্রীকৃষ্ণকে মারার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। একদিন মা যশোদা শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে চুম্বন করতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হাই তুলল। যশোদা তখন ছেলের মুখের মধ্যে চন্দ্র, সূর্য, বায়ু, আকাশ, বাতাস, জল, দ্বীপ, পর্বত, সমুদ্র, নদী, বনসহ সবকিছু দেখতে পেল এবং শিশু গোপাল কৃষ্ণ বিশ্বরূপ প্রদর্শনে প্রমাণ করে যে, ভগবান সবসময় যেকোনো অবস্থাতেই ভগবান। হোক শিশু, হোক যুবক কিংবা বৃদ্ধ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার উপদেশ শিক্ষায় যা করেছেন তার মধ্যে রাক্ষসী পুতনা বধ, চানুরকে বধ, কংস বধ, জরাসন্ধ বধ, শিশুপাল বধ, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, মথুরা লীলা, দ্বারকা লীলা, বৃন্দাবন লীলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শেষ হয় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।

চারি বর্ণের শিক্ষায় ব্রজে যিনি গোপ-বালক বৈশ্য, দ্বারকায় তিনি রাজ্য পালক ক্ষত্রিয়, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যিনি মহাপদেশক গীতার উপদেষ্টা ব্রাহ্মণ্যধর্মের মূর্ত বিগ্রহ, রাজসূয় যজ্ঞে তিনিই ভৃঙ্গার হস্তে পাদপ্রক্ষালক শূদ্র। তার বর্ণের সমন্বয় সর্ববর্ণনাতীত পুরুষোত্তম বা পুরুষ শিরোমনি।

লীলা রসময় শ্রীকৃষ্ণ যে ৬টি ভূমিতে লীলা করেছেন তাহলো- গোকুল, বৃন্দাবন, মথুরা, দ্বারকা, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস। লীলা প্রিয় শ্রীকৃষ্ণের গোকুল ও বৃন্দাবন লীলা ‘প্রেম মাধুর্যমণ্ডিত’। গোপ-গোপী ও গাভী, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ সকলইে প্রেমে গঠিত; প্রেমানন্দে পুলকিত বিধায় এ লীলা শাশ্বত চিন্ময় আনন্দঘন তাই এটি ত্রিগুণাতীত গোলক লীলা। মথুরা লীলা শ্রীকৃষ্ণের ‘সত্ত্বগুণের লীলা’। এ লীলায় ঐশ্বর্য-মাধুর্য সমান্তরাল। সকলেই কৃষ্ণ চিন্তায় মগ্ন কারণ কেউ ভক্তি যোগে কেউ শত্রুভাবে সেই কারণে এ লীলায় শ্রীকৃষ্ণ সর্বৈশ্বর্যময় এমনকি শত্রু-মিত্র সকলকেই তিনি কৃপা করেছিলেন বিধায় মথুরা লীলা ‘সত্ত্বগুণময়’।

দ্বারকা লীলায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহৈশ্বর্যময় লীলা বিধায় এটি “রাজসিক” কারণ এ লীলায় মানবকুলকে সংসার ধর্ম শিখিয়েছেন। কুরুক্ষেত্র লীলা শ্রীকৃষ্ণের বহিরঙ্গ বহির্ভাবের মায়িক লীলা। ভূলোকের স্থূল লীলাই কুরুক্ষেত্র। সুতরাং কুরুক্ষেত্র স্থূল, দ্বারকা সূক্ষ্ম, মথুরা কারণ, ব্রজভূমি কারণাতীত। এ লীলায় ধর্মের সঙ্গে অধর্মের যুদ্ধ হয় এবং ধর্ম জয়ী হয়। সেজন্য বলা হয় ‘কুরুক্ষেত্র কর্ম ভূমি, মথুরা ও দ্বারকা ধর্ম ভূমি’ ব্রজ রস ভূমি।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধুলির ধরায় এসেছিলেন ভালো বাসতে, শুদ্ধ ভালোবাসা শিক্ষা দিতে তাই গোপ পল্লীর ধর্মহীন, বিদ্যাহীন, আভিজাত্যহীন মানব ও গোপীকুলের কৃষ্ণ তৃষ্ণার্ত হূদয়ে প্রীতি রসে পরিপূর্ণ করা বা তার বন্ধনই বা সম্পর্ক এ লীলার প্রকৃত শিক্ষা। এজন্যই সাধকগণের সাধন রাজ্যের প্রকৃত বস্তু বা কাঙ্ক্ষিত সম্পদ “মোক্ষলাভ”। মুক্তিদাতা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী সবার জীবনে শুভ ও কল্যাণ বয়ে আনুক প্রার্থনা করি।