স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।ক্যাপিটালমাকের্ট২৪.কম

মার্চ ৭, ২০১৮

৩৬ কোটি টাকার ভ্যাট বকেয়া

বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা বিপিডিবিকে বকেয়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ করতে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে কেন ওই ভ্যাট পরিশোধ করা হয়নি তার কারণও ব্যাখা করতে বলা হয়েছে ওই বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে।

এনবিআরের বৃহত্তম করদাতা ইউনিট বা এলটিইউ জানিয়েছে, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট বাবদ এখনও ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা জমা দেয়নি।

এলটিউই বলছে, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মধ্যে বিপিডিবি এই সময়ের মধ্যে উল্লেখিত ভ্যাট দেয়নি। অথচ আলোচ্য সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির আয় করা বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেওয়ার কথা ছিল।

এলটিউই এর কমিশনার মতিউর রহমান সই করা ওই চিঠিতে আলোচ্য সময়ের ভ্যাট কেন পরিশোধ করা হয়নি ১৫ দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এলটিউই সূত্র জানিয়েছে, বিপিডিবিকে দেওয়া চিঠিটি ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের ৫৫(১) ধারা মোতাবেক ভ্যাট পরিশোধের জন্য প্রাথমিক নোটিস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে যদি বিপিডিবি এই চিঠির জবাব দিতে ব্যর্থ হয় তবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিপিডিবি সূত্র জানিয়েছে, বকেয়া ভ্যাট পরিশোধের চিঠিটি তারা এখনও হাতে পায়নি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খালেদা মোহাম্মাদ বলেছেন, এলটিইউ এর চিঠি হাতে পেলেই এই বিষয়ে মন্তব্য করবেন তিনি।

এলটিইউ এর উপ কমিশনার বদিউজ্জামান মুন্সী বলেছেন, বিপিডিবির ভ্যাট রিটার্ন বিশ্লেষণ করেই এই বিষয়টি ধরা পড়েছে।

বদিউজ্জামান মুন্সী বলেন, আমরা আশা করি সরকারি প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই উল্লেখিত বয়েকা ভ্যাট পরিশোধ করবে।

সাধারণ ভ্যাট আইন অনুসারে ভোক্তাদের থেকে যে মাসের বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়েছে তার পরের মাসের ১৫ দিনের মধ্যেই ভ্যাট পরিশোধের কথা বিপিডিবির।

সূত্র মতে, উল্লেখিত ৫ বছরের ১৯টি ভ্যাট রিটার্ন ও ট্রেজারি চালান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি ৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার ভ্যাটের বিপরীতে মাত্র ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভ্যাট পরিশোধ করেছে।

এলটিইউ সূত্র বলছে, নিধারিত ভ্যাটের চাইতে কম ভ্যাট দিয়ে বিপিডিবি ভ্যাট আইনের ৩,৫ ও ৬ নম্বর ধারা ভঙ্গ করেছে।

সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবর কেউ বা তাদের আইনজীবী যদি আলোচনায় বসতে চায় তবে এজন্য একটি এনবিআর এর ভ্যাট ইউনিট বরাবর লিখিত অনুরোধ করতে হবে।