স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।ক্যাপিটালমাকের্ট২৪.কম

মার্চ ৭, ২০১৮

রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে ২০,০০০কোটি টাকা ঘাটতি

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ দেয়ার আবদার করেছে। এই আবদারটি করা হয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে তাদের যে মূলধন ঘাটতি হয়েছে তা মেটানোর জন্য। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বৃহত্তম ব্যাংক সোনালী ব্যাংক তাদের মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিই ‘হলমার্ক’ কেলেঙ্কারির কারণে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক জনতা মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিও আওয়ামী লীগের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ‘অ্যাননটেক্স’ নামে একটি অখ্যাত গ্রুপকে নিয়মনীতি না মেনে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

দুর্নীতির কারণে ‘লালবাতি জ্বলা’ বেসিক ব্যাংকও মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে। মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের প্রয়োজন ১২ শ’ ৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংক বলে বিবেচিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এ খাতে চেয়েছে যথাক্রমে ৭ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা ও ৮০০ কোটি টাকা। ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধনসংক্রান্ত সভায় এই অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অর্থ সরকার নগদ দিতে পারে, নতুবা গ্যারান্টি আকারেও দিতে পারে।

এর অর্থ হচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলো অন্য খাত থেকে মূলধন ঘাটতি পূরণে টাকা কর্জ করবে এবং সে ক্ষেত্রে গ্যারান্টার হবে সরকার। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।অর্থনীতির রক্তক্ষরণ, অর্থমন্ত্রীকে অবসর নেয়ার আহ্বান

আর্থিক খাতে অনিয়মের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এই মুহূর্তে অবসরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু। তিনি বলেন, ‘আপনি ডিসেম্বরে অবসরে যাবেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন আপনি রক্তক্ষরণ কনটিনিউ করবেন? আমাদের বাঁচান, দেশকে বাঁচান, জাতিকে বাঁচান। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওয়েট করার দরকার কী? আপনি আজই অবসরে চলে যান।’ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে এসব কথা বলেন তিনি। শেয়ার বাজারে ধস নিয়েও কথা বলেন তিনি। পরে জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। অর্থপাচার নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রথম পানামা পেপারসে নাম এলো, অর্থমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থা নিলেন না।

এরপর এলো প্যারাডাইস পেপারসে অনেক ব্যবসায়ীর নাম। তাতেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না। ব্যাংকিং খাতে চলছে আতঙ্ক উদ্বেগ। এই হচ্ছে মানি মার্কেটের অবস্থা।’ জাতীয় সংসদে জাপার এমপি বলেন, ‘সোনালী, জনতা, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের রিফাইনেন্সিং দরকার। ২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। কার টাকা এটা। এটা গৌরি সেনের টাকা নয়। ১৬ কোটি মানুষের টাকা। কীভাবে দিলেন? সব ব্যাংকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অর্থনীতির যক্ষ্মা হয়েছে, বাঁচাতে হবে। অর্থনীতির রক্তক্ষরণের কারণে দেশের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জাতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কর্মসংস্থান না হলে অর্থনীতি বেগবান হবে কীভাবে?’