স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।ক্যাপিটালমাকের্ট২৪.কম

মার্চ ৭, ২০১৮

চাষ করা হয়েছে বোরা ধান

নওগাঁ জেলার বদলগাজী উপজেলার চ্যাংলা পূর্ব পাড়ের ডাংগির কূল ধানময় একটি গ্রাম। কেবল দিগন্তজোড়া মাঠ নয়, বাড়ির উঠান, স্কুলের আঙিনা থেকে শুরু করে উপসানালয় ঘেঁষেও চাষ করা হয়েছে বোরা ধান। সিলেট অঞ্চলজুড়ে যেমন চা বাগানের বিস্তৃতি তেমনি নওগাঁ জেলা যেন ধানের রাজ্য।

চারিদিকে ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা। গত বোরো মৌসুমে লোকসান গুণতে হয়েছে কৃষকদের। এবার সেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে প্রাণপণ চেষ্টায় শুরু হয়েছে তাদের বোরো বিপ্লব।বদলগাছী উপজেলায় চাংলা মাঠে কাজ করছেন বইতুল শেখ। এবারের মৌসুমে তিন বিঘা বোরো আবাদ করেছেন তিনি। গত বোরো মৌসুমে লোকসান গুণতে হয়েছে তাকে। তবে এবার লোকসান পুষিয়ে নেবেন এই আশায় ফসল বুনেছেন।

বইতুল শেখ বলেন, “এবার ধানের অবস্থা ভালো। তবে এখনই বুজার লয়। চৈত্রিক (চৈত্র) মাস গ্যালে বুজা যাবি। গ্যালো বছর ফলন ভালো লয়। যে হারে হয়, সেই হারে খুব অ্যাটা হয়নি। গ্যালো বছর পানি ঝরে ব্যাবাক ধান ফেলে দিচে। তবে এবার ধান ভালো, খারাপ লয়।”
মধ্যবিত্তের চাহিদা মাঝারি মানের মিনিকেট ও গুঁটি চাল। অনেকের কাছে গুঁটি চাল লাল স্বর্ণা নামেও পরিচিতি। জিরাশাইল ধানের জন্যও বিখ্যাত নওগাঁ জেলা। দেশের ধান-চালের বড় মোকাম নওগাঁ জেলাতে প্রায় ১২শ’ মিল রয়েছে। এর মধ্যে অটোমেটিক ৫৫টি এবং বাকিগুলো হাসকিং মিল। জেলা থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়। জেলার চাহিদা ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল। বাকি চাল সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত বোরো মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কম উৎপাদিত হয়েছে। জিদিরপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ সাত বিঘা জমিতে এবার বোরো আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি খরচ করেছেন সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। আশা করছেন এবার বিঘা প্রতি ২০ মণ ধান ঘরে তুলবেন।